Skip to main content

মুসলিম পোর্ট

ভারতের তৃতীয় জনবহুল রাজ্য বিহারে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মুসলমান বাস করেন, মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮%। সংখ্যায় এরা বিশাল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা ও সম্পদের বণ্টনে এরা কার্যত গায়েব।

এই গায়েবী কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ফল। যেখানে একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ক্রমাগত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। যখনই তারা অধিকারের কথা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী, দেশদ্রোহী বা তোষণের সুবিধাভোগী তকমা লাগানো হয়েছে।

ভূগোল ও জনতত্ত্ব

বিহারের মুসলমানরা মূলত উত্তর বিহার ও সীমাঞ্চল অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। সীমাঞ্চলের চারটি জেলায় জনসংখ্যার চিত্র এরকম: কিশানগঞ্জে ৬৮%, কাটিহারে ৪৪.৫%, আরারিয়ায় ৪৩% এবং পূর্ণিয়ায় ৩৯% মুসলমান।

সীমাঞ্চলে মুসলমানদের গড় হার ৪২% এবং বিহারের মোট মুসলমানদের ৩০% এখানে বাস করেন। মাত্র ১৫% শহরে থাকেন, বাকি ৮৫% গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে প্রাদেশিক সরকারের উপস্থিতি সবচেয়ে কম।

শিক্ষাগত বৈষম্য: রাষ্ট্র কি সমান সুযোগ দিচ্ছে?

শিক্ষার সূচকে বিহারের মুসলমানরা রাজ্য ও জাতীয় গড় উভয়ের তুলনায় পিছিয়ে। বিহারের মুসলমানদের সাক্ষরতার হার ৫৬.৩%, যেখানে বিহারের সামগ্রিক হার ৬১.৮% এবং জাতীয় গড় ৭৪%। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মুসলিম যুবকদের মধ্যে নিরক্ষরতার হার ৩৮.১%, যেখানে বিহারে সামগ্রিকভাবে এই হার ৩১.৭%। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন মাত্র ৮.৮% মুসলিম যুবক, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে যা প্রায় ১৫%।

প্রতি ৪ জন মুসলিম শিশুর মধ্যে ১ জন দশম শ্রেণির আগেই ঝরে পড়ে। মূল কারণগুলি দেখলে স্পষ্ট হয় যে এর পেছনে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ব্যর্থতা সরাসরি দায়ী।

মুসলিম-অধ্যুষিত সীমাঞ্চলে পর্যাপ্ত সরকারি স্কুল-কলেজ নেই, সেতু ও রাস্তা নেই, পরিবহন নেই। অথচ একই রাজ্যে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় এসব অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে উন্নত। এটি নিছক উন্নয়নের ঘাটতি নয়, এটি কোথায় বিনিয়োগ হবে এবং কোথায় হবে না, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।

কর্মসংস্থান ও আয়: সংখ্যায় লুকানো বৈষম্য

জনসংখ্যার ১৮% হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের অংশ মাত্র ৭%। গ্রামীণ এলাকায় একটি মুসলিম পরিবারের গড় মাসিক আয় মাত্র ২,৬৩০ রুপি এবং শহরে ৩,৬৪০ রুপি। গড় পরিবারে ৫ থেকে ৬ জন সদস্য এবং প্রজনন হার ৩.৬ হওয়ায় এই আয় একেবারেই অপ্রতুল।

এই ব্যবধান বোঝার জন্য একটি হিসাব যথেষ্ট: যদি অনুপাতে চাকরি পেতেন, তাহলে আরও প্রায় দেড় লাখ মুসলমান পরিবার সরকারি চাকরির নিরাপত্তায় থাকত, তবে তারা নেই। সেই জায়গা অন্যরা নিয়েছে।

ঋণের বোঝা চাপা দিচ্ছে পরিবারগুলিকে। গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের ৪১.৫% ঋণগ্রস্ত এবং সেই ঋণের পরিমাণ বার্ষিক আয়ের ৫৭%। শহুরে মুসলিম পরিবারের ২৪.৯% ঋণগ্রস্ত, ঋণ বার্ষিক আয়ের ৫৬%। সরকারি কল্যাণ প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে সবার জন্য, কিন্তু নথিপত্রের অভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে সেসব সুবিধা মুসলিম পরিবারের কাছে পৌঁছায় না। এই “প্রক্রিয়াগত বাধা” মূলত কাঠামোগত বৈষম্যেরই আরেক নাম।

অবকাঠামো: উন্নয়নের মানচিত্রে কারা নেই?

সীমাঞ্চলের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার অবকাঠামোগত চিত্র অত্যন্ত নাজুক। প্রায় ৮০% মানুষ আধা-পাকা বা মাটির ঘরে বাস করেন। পায়খানার হার মাত্র ৭১.১%, যেখানে জাতীয় গড় ৯০.৩%। রাস্তা ও সেতুর ব্যাপক ঘাটতির কারণে বন্যায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অপ্রতুলতার পাশাপাশি পানিতে ইউরেনিয়াম ও আর্সেনিক দূষণ রয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অনুপস্থিত।

ভারত সরকার স্বচ্ছ ভারত, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো একাধিক মেগা প্রকল্পে কোটি কোটি রুপি ব্যয় করেছে। কিন্তু সীমাঞ্চলের মুসলিম এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর ফলাফল এখনও নগণ্য। প্রশ্নটি সহজ: বরাদ্দ কোথায় গেল?

বন্যা: প্রকৃতির দুর্যোগ, রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা

বিহারে প্রতি বছর বন্যা রাজ্যের ৭৬% জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু সীমাঞ্চলে এই বিপর্যয় অন্যরকম, কারণ এখানকার বন্যার ক্ষতি স্বাভাবিক নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার সরাসরি পরিণতি।

নেপাল থেকে আসা নদীর ঢল প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণ জরুরি ছিল। দশকের পর দশক ধরে এই দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ১৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কাটিহারে একটি সরকারি বিদ্যালয় নদীতে তলিয়ে গেছে। নদীর ভাঙনে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ একর জমি বিলীন হচ্ছে। পানিতে ইউরেনিয়াম ও আর্সেনিক দূষণে ক্যান্সার, যক্ষ্মা ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের প্রকোপ বাড়ছে।

ঘরবাড়ি ও ফসল হারানো পরিবারগুলো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায় না। অথচ রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অনেক বেশি দৃশ্যমান। এই তফাত অকারণ নয়।

স্বাস্থ্য ও অভিবাসন: পালিয়ে বাঁচার রাজনীতি

টিকাদান কম, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা প্রায় অনুপস্থিত। বিহারে মুসলিম শিশুমৃত্যুর হার হিন্দু শিশুদের চেয়ে বেশি, যা জাতীয় প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন কোনো পছন্দ নয়, মজবুরি। প্রতি ৩টি পরিবারের ২টির কোনো সদস্য দেশে বা বিদেশে মজদুর হিসেবে কাজ করছেন। পুরুষ দূরে গেলে নারী একা সংসার ও সন্তান সামলায়। স্থানীয়ভাবে কোনো অর্থনৈতিক সুযোগ না থাকাই এর মূল কারণ। যখন একটি জনগোষ্ঠীকে নিজের মাটিতে বাঁচার সুযোগ না দিয়ে শুধু পরিযায়ী মজদুর বানানো হয়, সেটিই রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের একটি নিষ্ঠুর রূপ।

রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব: সংখ্যার গণতন্ত্রে সংখ্যালঘু

  • ঐতিহাসিক বঞ্চনা

১৯৫২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত লোকসভায় বিহার থেকে মোট ৮৯৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানরা পেয়েছেন মাত্র ৬৩টি, প্রত্যাশিত ১৫১-এর বিপরীতে; বঞ্চনার হার ৫৮.৪৫%। বিধানসভায় ১৯৫২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট ৪,৮৩০টি আসনের মধ্যে মুসলিম সদস্য মাত্র ৩৮৮ জন, প্রত্যাশিত ৮৬৯-এর বিপরীতে; গড় বঞ্চনার হার ৫৪.১৭%।

সাত দশকের এই ধারাবাহিক কম প্রতিনিধিত্ব কোনো কাকতাল নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বর্জনের চিত্র।

  • ২০২৫ নির্বাচন: ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়

২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১১ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, যা বিহার বিধানসভার ৭৩ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ২০১৫ সালে ছিলেন ২৪ জন, ২০২০ সালে ১৯ জন। দলওয়ারি হিসাবে আরজেডি ২০১৫ সালে ১৬ জন এবং ২০২০ সালে ১৭ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত করলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪ জনে। কংগ্রেস যথাক্রমে ১০, ১২ থেকে নেমে ৩ জনে এসেছে। জেডিইউ ৭, ১১ থেকে নেমে মাত্র ১ জনে দাঁড়িয়েছে। একমাত্র AIMIM তাদের ৫টি আসন ধরে রেখেছে।

নির্বাচনের ফলাফল দেখাচ্ছে যে রাজপুতরা ১৮ থেকে ৩২, ভূমিহাররা ১৭ থেকে ২৩, ব্রাহ্মণরা ১২ থেকে ১৪-তে উঠেছেন। শুধু মুসলমানরা ১৯ থেকে ১১-তে নেমে এসেছেন। প্রতিটি বর্ণের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে, একমাত্র ব্যতিক্রম মুসলমান।

BJP জোট (NDA) সরকারে একজনও মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী কখনো হননি, যদিও মুসলমানরা জনসংখ্যার ১৮%। যখন এই প্রশ্ন তোলা হয়, তখন জবাব আসে “যোগ্য প্রার্থী নেই।” অথচ রাজনৈতিক যোগ্যতা নির্ধারণ করে কারা? যারা নিজেরাই ক্ষমতায়।

SIR: ভোটাধিকার হরণের রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার

২০২৫ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবন্ধন পুনর্মূল্যায়নে (SIR) বিহারের ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ লাখ নাম মুছে দেওয়া হয়। সীমাঞ্চলে এই মুছে ফেলার হার ছিল রাজ্যের গড়ের চেয়ে বেশি। মুসলিম-অধিক জনসংখ্যার জেলাগুলি, মধুবনি, পূর্ণিয়া ও সীতামারহি, সর্বোচ্চ ভোটার বিলোপের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। পূর্ণিয়াতে একাই ৫০,৭৬৭টি নাম মুছেছে।

কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে ২০২০ সালের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনগুলিতে প্রায় ২৩ লাখ নারী ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগ দলিত ও মুসলিম নারী। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই বিলোপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা মানে কেবল একটি নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া নয়। এটি একটি নাগরিককে তার সাংবিধানিক পরিচয় থেকে মুছে দেওয়া।

রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কাঠামো: যেভাবে সিস্টেম কাজ করে

বিহারের মুসলমানদের গরিবী বুঝতে হলে একটি মূল প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে: এই মানুষগুলো কি নিজেরা পিছিয়ে আছেন, নাকি তাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে?

তথ্য বলছে দ্বিতীয়টি, এবং এই পিছিয়ে রাখার কাজটি হয় পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পথে:

প্রথমত, বাজেট বৈষম্য: মুসলিম-অধ্যুষিত সীমাঞ্চলে অবকাঠামো বিনিয়োগ ঐতিহাসিকভাবে কম; বাঁধ নেই, সেতু নেই, হাসপাতাল নেই। এগুলো পরিকল্পনার ফল, অবহেলার নয়। কারণ পরিকল্পনা কারা করে, তার জবাবে ফিরে যেতে হয় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে।

দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক বর্জন: সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের মাত্র ৭% প্রতিনিধিত্ব; মানে পুলিশে, প্রশাসনে, স্বাস্থ্য বিভাগে, শিক্ষা বিভাগে সর্বত্র অনুপস্থিতি। ফলে মুসলিম এলাকার সমস্যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে পৌঁছায় না।

তৃতীয়ত, নথিপত্রের ফাঁদ: জন্মসনদ নেই, পাসপোর্ট নেই, জমির দলিল নেই, ফলে সরকারি সুবিধা পাওয়া যায় না। অথচ এই নথিপত্র তৈরির দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। যে রাষ্ট্র নথি দেয়নি, সেই রাষ্ট্রই আবার নথি না থাকলে সুবিধা দেয় না। এটি একটি ইচ্ছাকৃত চক্র।

চতুর্থত, ভোটাধিকার সংকোচন: SIR-এর মাধ্যমে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম মোছা, বিশেষত সংঘাতপূর্ণ আসনে, জাহির করে যে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পঞ্চমত, বর্ণনামূলক কলঙ্ক: যখনই মুসলমানরা অধিকারের কথা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে “অনুপ্রবেশকারী” বা “তোষণের সুবিধাভোগী” তকমা লাগানো হয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যার লক্ষ্য মুসলিম দাবিকে অবৈধ প্রমাণ করা এবং সংখ্যাগুরু ভোটারদের সংহত করা।

২০২৫ নির্বাচন ও AIMIM: প্রতিরোধের নতুন রূপ

BJP জোট (NDA) ২০২৫ নির্বাচনে বিহারে ২০২ আসন পেয়েছে। মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ১৯ থেকে ১১-তে নেমেছে, ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

এই প্রেক্ষাপটে AIMIM (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen)-এর পাঁচটি আসন ধরে রাখা একটি প্রতিরোধের প্রতীক। AIMIM-এর ভোটের হার ১.৩% থেকে বেড়ে ২% হয়েছে। ৩৫ বছরের RJD-JDU নির্ভরতার অবসান ঘটিয়ে সীমাঞ্চলের মুসলমানরা জানান দিয়েছেন যে তারা ব্যবহৃত হতে আর রাজি নন।

কিন্তু এই প্রতিরোধও সীমাবদ্ধ। সীমাঞ্চলের বাইরে মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি কার্যত নেই। BJP-র “অনুপ্রবেশকারী” বর্ণনা হিন্দু ভোটারদের মধ্যে পাল্টা মেরুকরণ তৈরি করতে পেরেছে। ফলে মুসলমানরা যত বেশি একজোট হচ্ছেন, বিপরীতে মেরুকরণও তত বাড়ছে।

আসলে, বিহারের মুসলমানরা গরীব কারণ তারা মেহনতি নন, এমন কথা কেউ বলতে পারবেন না। সীমাঞ্চলের মানুষ বন্যার পর বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়। পুরুষ হাজার মাইল দূরে মজদুরি করে, নারী একা সংসার টিকিয়ে রাখে। তারা ভোট দেয়, অধিকার চায়, স্বপ্ন দেখে।

কিন্তু সাত দশক ধরে তাদের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো কাজ করেছে, যা তাদের বিদ্যালয় দেয়নি, চাকরি দেয়নি, বাঁধ দেয়নি, ভোট রক্ষা করেনি এবং সংসদে কথা বলার সুযোগ কমিয়ে এনেছে।

লিখেছেনঃ মুয়াজ বিন মুসলিম