মুসলিম পোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে আবারও সামনে এসেছে কুখ্যাত অর্থনৈতিক অপরাধী Jeffrey Epstein–এর নাম। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এপস্টেইন যে প্রভাব-নির্ভর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, তা ছিল কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং অর্থ, যৌন কেলেঙ্কারি, নিয়ন্ত্রণ ও ব্ল্যাকমেইলকে হাতিয়ার বানিয়ে প্রভাব বিস্তারের এক সুপরিকল্পিত কাঠামো। আর সেই কাঠামোর প্রতিধ্বনি নাকি এখন শোনা যাচ্ছে উপসাগরীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক টানাপোড়েনে বা ইরানে সাম্রাজ্যবাদী ও জায়নবাদী গোষ্ঠীর আগ্রাসনে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্য বক্তব্য ও নথিপত্রের মাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে, যা তাকে একই প্রভাব-রাজনীতির বলয়ে যুক্ত করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ মহল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক সুবিধা ও সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে। এ ব্যবস্থায় কেউ কাউকে রক্ষা করেছে, আবার একই সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থও হাসিল করেছে।

এই বিতর্কে উঠে এসেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর নামও। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও গোপন নথি কখনও কখনও বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ-সমর্থিত কোনো স্বীকৃতি নেই, তবু রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন থামছে না। উলটা এপস্টেইন নামক ফাঁদে পা দিয়েই টালমাটাল হচ্ছে আজকের বৈশ্বিক রাজনীতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক বিশৃঙ্খলা বা তুচ্ছ ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা সম্পর্ক ও ক্ষমতার নেপথ্য কৌশলের এক ধরনের ‘উন্মোচন’। তবে উন্মোচন মানেই বিজয় নয়। কারণ কাঠামো অটুট থাকলে ব্যক্তির পতনেও ব্যবস্থার খুব একটা পরিবর্তন আসে না।

প্রায় ৩৫ কোটি মানুষের দেশ যুক্তরাষ্ট্র; যেখানে গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও নির্বাচনী রাজনীতি বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করে, সেই দেশই কি এখন ব্ল্যাকমেইলের রাজনীতির কাছে জিম্মি? সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক শ্রেণি কি এমন এক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে প্রস্তুত, যেখানে জনগনের রাজনীতি ও ব্যক্তিত্বের চেয়ে ‘স্পেকট্যাকল’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

এ প্রেক্ষাপটেই আবারও সামনে এসেছে সেই পুরোনো স্লোগান ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাস্তবে সিদ্ধান্তগুলো কি কেবল আমেরিকার স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অগ্রাধিকারও সমানভাবে প্রভাব ফেলছে? বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অবস্থান এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “পচন এখন দৃশ্যমান, হিসাব-নিকাশও হয়তো খুব দূরে নয়।” তবে চূড়ান্ত প্রশ্ন থেকে যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রকৃত অগ্রাধিকার কোনটি: কেবল জাতীয় স্বার্থ, নাকি আন্তর্জাতিক জোট-রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব? নাকি কেবলই জায়নবাদের স্বার্থ রক্ষা?

এই বিতর্কের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।