ওয়াকফ বিল: হুমকির মুখে মুসলমানদের ১৪ বিলিয়ন ডলারের ওয়াকফকৃত সম্পদ
মোদি সরকার বলছে, তারা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়। কিন্তু মুসলমানদের আশঙ্কা, এর পেছনে আছে মরিশাসের দ্বিগুণ আয়তনের জমি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অসাধু পরিকল্পনা।

ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার মুসলিমদের ওয়াককফ সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব পাশের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের সম্পদ লুন্ঠনের পায়তারা করছে । যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বলছে, ওয়াকফ সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে দুর্নীতি দূর করাই তাদের লক্ষ্য, যাতে এসব সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়।
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দাবি করছে, সংস্কারের জন্য এই পরিবর্তনগুলো জরুরি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল পাশ করে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিমদের দান করা তথা ওয়াকফকৃত সম্পত্তিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে মোদি সরকার।
এই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকান, মাজার, কবরস্থানসহ ৮৭২৩৫১ টি প্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার একর জমি। পরিমানে যা ৯ লাখ ৪০ হাজার একরের বেশী।
ওয়াকফ কী?
ওয়াকফ বলতে মুসলিমদের দ্বারা স্থায়ীভাবে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে দান করা ব্যক্তিগত সম্পত্তি, স্থাবর বা অস্থাবরকে বোঝায়।
দুনিয়া জুড়ে মুসলিম সমাজে প্রচলিত এই ওয়াকফ ব্যবস্থা ১৪ শতাব্দী পুরনো এবং ১২শ শতাব্দী থেকেই ভারতীয় মুসলিমদের আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্নক্ষেত্র ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কল্যাণ পাওয়া মানুষের অবস্থান ভিন্নতা দেখা গেলেও ওয়াকফ ধারণাটি উপমহাদেশে একটি শক্তিশালী দলিল! মৌখিকভাবে বা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ধর্মীয় বা দাতব্য ব্যবহারের মাধ্যমেও এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচলিত রয়েছে ব্রিটিশ আগমন পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের শুধু বাংলা অঞ্চলেরই মোট ভূমির ৫৭ শতাংশ ভূমিই ছিল মুসলমানদের দান করা ওয়াকফকৃত সম্পদ।

মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, একবার সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত হলে তা আল্লাহর নামে হস্তান্তরিত হয় এবং তা বিক্রি বা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় না।
সম্প্রতি ভারতের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইন পাশের বিপরীতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞ ও ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের বাসিন্দা ফাইজান মুস্তাফা আল জাজিরাকে বলেন
“ওয়াকফ ইসলামী সভ্যতার একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। পশ্চিমা ট্রাস্টের ধারণা মুসলিমদের ওয়াকফ ধারণা থেকেই ধার করা”
ওয়াকফ তিন ধরনের:
- ১. পাবলিক ওয়াকফ: স্কুল ও হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান।
- ২. ফ্যামিলি ওয়াকফ: দাতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আয় বণ্টন করা হয়।
- ৩. মিশ্র ওয়াকফ: ব্যক্তিগত ও পাবলিক উভয় উদ্দেশ্যে দান ব্যবহার করা হয়। যেমন, প্রাইভেট ওয়াকফের আয় নির্দিষ্ট গ্রুপ (যেমন শিক্ষার্থী) ব্যবহার করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তি প্রায় ১০ লাখ একর (১৫৬২.৫ বর্গমাইল) জুড়ে ছড়িয়ে আছে, যা মরিশাসের আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। এসব সম্পত্তি দেখভাল করে ৩২টি সরকারি ওয়াকফ বোর্ড, যা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে রয়েছে। এখনো এটি পরিচালনার সুগঠিত নিয়ম রয়েছে। যেমন, প্রতিটি রাজ্যের বোর্ডে সরকারি মনোনীত ব্যক্তি, মুসলিম আইনপ্রণেতা (বর্তমান বা প্রাক্তন), পণ্ডিত ও সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়ক (মুতাওয়াল্লি) থাকেন। সবাইকে মুসলিম হতে হবে।
কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল (CWC) কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দেয় এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলো তদারকি করে। সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত বা নির্বাচিত হন। কমপক্ষে দুজন নারী সদস্যও এই বোর্ডে থাকতে হবে।
ভারতে ঐতিহাসিকভাবে ওয়াকফ যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে
বর্তমানে ভারতের ওয়াকফ সম্পত্তি ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তবে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলে ১৯১৩ সালে মুসলিম ওয়াকফ বৈধতা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রথম আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর ১৯২৩ সালে মুসলিম ওয়াকফ আইন আসে।
ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৫৪ সালে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ আইন চালু হয়, যা পরে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিতও হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষা জোরদার করতে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে অবৈধ দখলের জন্য কারাদণ্ডের মতো শাস্তিও যুক্ত হয় এবং ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি, দান, বিনিময়, বন্ধক বা হস্তান্তর সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়া, অমুসলিমদের দানকৃত সম্পত্তিও ওয়াকফের আওতায় আনা হয়। কিন্তু বর্তমান বিলে এই বিধান সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার পথে কট্টরপন্থী ভারত সরকার।

অন্যদিকে, ভারতের সংবিধান প্রণেতারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করে মুসলমানদের পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিশেষ বিধান দিয়েছিলেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ও ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনার অধিকার দেয়। এছাড়া, রাষ্ট্র ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যক্তিগত বিষয়ে (বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার, পারিবারিক সম্পর্ক) হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও উল্লিখিত ছিল সেই বিধানে।
কিন্তু বিজেপি দাবি করে, শরিয়াহ ভিত্তিক মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নাকি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪-এর লঙ্ঘন। আইনের সামনে সমতার ক্ষেত্রেও নাকি সেটি অগ্রহণযোগ্য।
প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কী?
ভারত সরকারের এই বিলে ৪০টির বেশি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো এই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাটি বোর্ড থেকে রাজ্য সরকারের হাতে নেওয়া।
এছাড়াও, আইন অনুযায়ী বর্তমানে ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য ও CEO-দের মুসলিম হতে হয়, কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অমুসলিমদের সদস্য করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য ধর্মীয় ও দাতব্য ট্রাস্টের CEO-দের সংশ্লিষ্ট ধর্মের হতে হয়। সেখানেও বিজেপি সদস্য নিয়োগের আদেশ দিয়েছে সংসদ।
ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হয়, যেখানে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা ও মুসলিম আইন বিশেষজ্ঞ থাকেন। এটি একটি কোর্টের মতো, শুধু ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়ই দেখে।
পাশাপাশি, নতুন বিলে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এছাড়া, মুসলিম আইন বিশেষজ্ঞ রাখার বিধানও বাতিল করা হচ্ছে।
ভারতের সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ আখতার বলেন,
“ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছিল সাধারণ কোর্টের চাপ কমানোর জন্য। একটি শক্তিশালী বিচারিক কমিটি তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল, যা শুধু ওয়াকফ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
২০১৩ সালের সংশোধনী প্রণয়নকারী আখতার এই মন্তব্য করেন।
তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে ৪০,৯৫১টি মামলা ঝুলন্ত অবস্থায় আছে, যার মধ্যে ৯,৯৪২টি মামলা ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের করা।
ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও আতঙ্কিত করেছে যেটি তা হলো, এই মূহুর্তে ব্যবহারকারীর ওয়াকফ সম্পদ বাতিলের প্রস্তাব। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে এসব সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও তাদের প্রশাসনিক দলিল নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০% ওয়াকফ সম্পত্তিই এই শ্রেণির।
এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা বলেন, “অনেক ওয়াকফ ৫০০-৬০০ বছর পুরনো, তাই সঠিক ডকুমেন্টেশন নাও থাকতে পারে। মুসলিমরা এখন ভয় পাচ্ছেন যে তাদের কবরস্থান, মসজিদ ও স্কুলও না আইনি বিরোধের মুখে পড়ে!”
বিল অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত ওয়াকফ সম্পত্তি আর ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে না।
ভারতের ধর্মীয় সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের ভাইস প্রেসিডেন্ট মালিক মোতাসিম খান বলেন, “ওয়াকফ সম্পত্তি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রতিটি বিষয় আইন ও সরকারের তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত হয়। সমস্যা হলো সরকারের মানসিকতা।”
আমি গান্ধীর মত এই বিলটি ছিড়ে ফেলেছি কারণ এটি অসাংবিধানিক! ওয়াকফ সম্পত্তি হলো মুসলমানদের ধর্মীয় একটি কল্যান ট্রাস্ট।…
Posted by মুসলিম পোর্ট on Friday, April 4, 2025
ভারত সরকার কেন ওয়াকফ আইন সংস্কার করতে চায়?
সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনের পিছনে কিছু কারণ উল্লেখ করেছে, যেমন ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে নাকি ঢের বৈচিত্র্যের অভাব। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ এবং ওয়াকফ সম্পত্তির অপরিবর্তনীয়তা বা ওয়াকফ সম্পত্তিতে কোনো পরিবর্তন করা যায় না।
এই বিল ওয়াকফ সংস্থাগুলির অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতাও কেড়ে নেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫৮,৯২৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে।
তবে সেই সমস্যাগুলো সমাধানের বদলে, সরকারের প্রস্তাবনা ওয়াকফ সংস্থাগুলোর মৌলিক কাঠামো বদলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চায় বলে তারা উল্লেখ করেন। সংশোধনী পাস হলে, ওয়াকফ বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে অমুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাখার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এর আগে গত আগস্টে সংসদে এই বিল উত্থাপন করা হয়, কিন্তু বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের পর এটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হইয়েছিল।
যদিও জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানি বিহারের রাজধানী পাটনায় এক সমাবেশে বলেন,
“ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান মুসলিমদের কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন অনুসরণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি ওয়াকফ সম্পর্কিত বক্তব্যে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,
যেখানে মোদী দাবি করেছিলেন যে সংবিধানে ওয়াকফের কোনো স্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী যদি আজ ওয়াকফ সম্পর্কে এমন কথা বলেন, তাহলে আগামীকাল তিনি হয়তো নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতও সংবিধানে উল্লেখ নেই বলে দাবি করে সেগুলো নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন।”
মুসলিম সংগঠনগুলোর অবস্থান
মুসলিম নেতা ও কর্মীরা বলছেন যে এই পরিবর্তনগুলো মুসলিমদের সংবিধানপ্রদত্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং এর মাধ্যমে হাজার হাজার একর জমি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সাদিয়া খান গণমাধ্যমকে বলেন,
ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সর্বত্রই আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে মুসলিমদের এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে ধর্মীয় অধিকার পুরোপুরি ছিনিয়ে নেওয়া উচিত। যদি মানিও যে ভাল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া হওয়া উচিত নয়। আমাদের সাথে পরামর্শ না করার মানে তো জোর করে দখল করাই।
Shikwa-e-Hind: The Political Future of Indian Muslims বইয়ের লেখক মুজিবুর রহমান বলছেন, ওয়াকফ সংস্থাগুলোর সংস্কার প্রয়োজন — তবে বিজেপি যে ধরনের সংস্কার প্রস্তাব করছে, তা নয়। এটি স্পষ্ট জবরদখল।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র কমল ফারুকি বলেন,
সরকারের উদ্দেশ্য দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা নয়, বরং “সেসব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা যা মুসলমানদের উন্নয়নে অবদান রাখছে।”
ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক অডিটর এই ফারুকি আরো বলেন,
সরকারের লক্ষ্য হলো “সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘুদের অপমান করা, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটব্যাংকের মন জয় করা যায়। এটি পুরো দেশকে মেরুকরণের একটি পরিকল্পনা।”
উত্তর প্রদেশে ৪ কোটি মুসলমান বাস করেন এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় ওয়াকফ জমির ভাণ্ডার ধারণ করে। তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে ১,৬২,২২৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। আবার এই রাজ্য পরিচালনা করছে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, যার শাসনামলেি স্থানীয় মুসলমানরা প্রশাসনিক বৈষম্য ও বাড়তি মেরুকরণের রোশানলের মুখে পড়ে। ফলে এটি স্পষ্ট যে, বিলটি অনুযায়ী ভারত সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করলে সবচেয়ে বেশী অত্যাচারের মুখোমুখি হবেন উত্তর প্রদেশের মুসলমানেরা।
সংকলণঃ মুশফিকুর রহমান