মুসলিম পোর্ট

গত ৫০০ বছরে পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন অঞ্চলে সবচেয়ে ঘৃণিত কলোনি স্থাপনের তালিকায় ব্রিটেনের নাম উঠে আসবে সর্বাগ্রে। মুসলিম অঞ্চলগুলোতে বছরের পর বছর ধরে শোষণের ঘৃণ্য অধ্যায় তো আছেই, আফ্রিকা ও ক্যারেবিয়ার দেশগুলোতে এখনো ব্রিটেনের স্থাপিত কলোনি উঠেনি পুরোপুরি।

গত বছরের নভেম্বরে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ক্যারিবিয়ার দেশ গুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয় “ইউনাইটেড ফ্রন্ট”, যারা সেসকল অঞ্চলে ব্রিটেনের স্থাপিত ঘৃণ্য কলোনির ক্ষতিপূরণ দাবী করে এবং একে “ঐতিহাসিক গণ-অপরাধ” হিসেবে আখ্যায়িত করে। 

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, 
এসময় ১৫ ক্যারিবিয়ান দেশের জোট CARICOM দাবী করে,
ব্রিটেনের জঘন্য কলোনি স্থাপন ও চৌর্যবৃত্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে জোটভুক্ত দেশগুলোকে ব্রিটেনের ২০৬ বিলিয়ন পাউন্ড (২৭০ বিলিয়ন ডলার)  প্রদানে বাধিত করতে হবে। 

এবিষয়ে চলতি অক্টোবরের ২১-২৫ তারিখে সামাও-এ অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ হেড অব গভমেন্ট (CHOGM) এর শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে কমনওয়েলথের বর্তমান চেয়ারপারসন পল কাগামে। 
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি কমনওয়েলথ “ইউনাইটেড ফ্রন্ট” এর দাবী মেনে নেয় তবে ব্রিটেনকে স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে হতে পারে। 

এই প্রসঙ্গে স্পুটনিক ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলছে,

ইউনাইটেড ফ্রন্টের দাবীকে অযৌক্তিক ও অযাচিত হিসেবে উড়িয়ে দিতে পারে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। যদিও এবিষয়ে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। 

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে প্রকাশিত আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানে ট্রান্সআটলান্টিক ভূমিদাসীদের জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ টিরও বেশি দেশ ট্রান্সআটলান্টিক দাস ব্যবসার জন্য পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যৌক্তিকতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি, গেল মার্চেও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি অ্যান্ড কমন মার্কেট (CARICOM) আসন্ন কমনওয়েলথ এর সম্মেলনকেই “বিচারিক ক্ষতিপূরণ” এর মোক্ষম সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ফলে, এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইউনাইটেড ফ্রন্টের দাবীকে এতো সহজে মোকাবেলা করতে পারবেনা ব্রিটেন। 

অন্যদিকে ইউনাইটেড ফ্রন্টের কিংবা ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর নেতাদেরও এবিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গিয়েছে। আগস্টে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কেইথ রওলি বলেন- 
“অক্টোবরে কমনওয়েলথ বৈঠকে আমরা আমাদের আরোপিত গোলামীর জিঞ্জির নিয়ে কথা বলতে চাই। আমরা পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলোকেও মোকাবেলা করতে চাই।”

বার্বাডোস এর প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোতলে’র মন্তব্যের সুরও কাছাকাছি। তিনি বলেন- 
“আমাদের উপর আনিতো দাসত্বের জন্য ক্ষতিপূরণ ও কলোনি স্থাপনের জন্য ব্রিটেনকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এখন একটি গ্লোবাল রিসেটের প্রয়োজন।”

 

উল্লেখ্য, মিয়া মোতলি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেশগুলির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে একত্রিত করণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গেল সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে একটি ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, দাস বাণিজ্যের সুরাহা হতে হবে! 

একইসাথে চলতি মাসের (অক্টোবর) শুরুতে রাজা চার্লস III এর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য টেলিফোনে কথোপকথন করেছিলেন মিয়া মোতলি। ব্রিটিশ রাজা এবং স্টারমার উভয়ই CHOGM এর সমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৬৬ সালে ব্রিটেনের কলোনি থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২০২১ সালের নভেম্বরে বার্বাডোস সাংবিধানিক রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রের রূপান্তরিত হয়। যার মধ্য দিয়ে দেশটি পঞ্চম দেশ হিসেবে ক্যারিবিয়ান CARICOM ভূক্ত হয়ে ওঠে। 

২০২২ সালে রুয়ান্ডায় সর্বশেষ কমনওয়েলথ বৈঠকে রাজপুত্র চার্লস আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ার দেশগুলো সহ কলোনিভূক্ত দেশগুলোর প্রতি ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য দিয়েছিল।

প্রতিবেদনঃ মুশফিকুর রহমান