গাজা উপত্যকায় ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইব্রাহিম আল-আরজানির নাম উঠে আসছে একজন মূল ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে প্রবেশ ও বের হওয়া সবকিছু কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মিশরীয় গণমাধ্যমে তাকে সাধারণত একজন ব্যবসায়ী এবং সিনাইয়ের তারাবিন গোত্রের অন্যতম নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা সমূহ পর্যবেক্ষণ করলে ভিন্ন একটি চিত্র সামনে আসে।
সূত্র অনুযায়ী, আরজানির মাদক পাচারে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সিনাইয়ে আইএসআইএসের বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা মিশরীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তাকে তার সঙ্গে সহযোগিতায় বাধ্য করে। কর্তৃপক্ষ আরজানিকে সিনাইয়ের উপজাতীয় কাঠামোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের সংঘাতকালে ‘সিনাই প্রদেশ’ নামে পরিচিত আইএসআইএস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের লড়াইয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
একাধিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধীরে ধীরে তিনি গাজার প্রবেশদ্বারের রক্ষক হয়ে ওঠেন নিজের কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সহায়তা ট্রাক, বাণিজ্যিক পণ্য ও যাত্রীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। এই সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে যে অর্থ আদায় করা হয়েছে, তাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ব্রিটিশ ও আরব সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ ও পদ্ধতিগত চাঁদাবাজি বলে বর্ণনা করেছে।
আরজানির ক্ষমতায় উত্থান
ইব্রাহিম আল-আরজানি ১৯৭৭ সালে উত্তর সিনাইয়ের শেখ জুওয়াইদ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিনাই উপদ্বীপের অন্যতম বৃহত্তম গোত্র তারাবিন গোত্রের সদস্য।
তারাবিন গোত্রের প্রভাব শুধু সিনাইয়েই সীমাবদ্ধ নয়, ১৯৪৮ সালের সীমানার মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও, বিশেষত নেগেভ মরুভূমির আশপাশে তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। জানা যায়, গোত্রের কিছু সদস্য মিশর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতেও কর্মরত। ইসরায়েলের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি নীতির কারণে গাজা উপত্যকায়ও এই গোত্রের উপস্থিতি রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরজানি তার যৌবনে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারাকের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গুরুতর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারির বিপ্লবের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আরজানির জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
২০১৩ সালে আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির ক্ষমতায় আসার পর আরজানি রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ থেকে সিনাইয়ে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হন। মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিনাই ট্রাইবস ইউনিয়ন’ নামক একটি সংগঠনের মাধ্যমে , যা উত্তর সিনাইয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পাশে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে তাকে অঞ্চলের গোত্রগুলোর নেতৃত্বের পদে আসীন করে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব তাকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সুরক্ষা দিয়েছে, যার ফলে তিনি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন , যা মিশরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বলে ধারণা করা হয়।

রাষ্ট্রীয় সহায়তায় গড়ে ওঠা কোম্পানির নেটওয়ার্ক
রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের উপর আরজানির নিয়ন্ত্রণ একটি কোম্পানির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
আবনা সিনাই: ঠিকাদারি ও লজিস্টিক্স খাতে বহু প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী এই কোম্পানিটি মিশরের পাশে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের উন্নয়নকাজ পরিচালনা করেছে। কোম্পানিটি সীমান্ত ক্রসিংয়ের ভেতরে একটি পুরো হল ভাড়া নিয়েছে এবং সহায়তা সামগ্রী আসা-সহ সমস্ত লজিস্টিক্স সেবার দায়িত্ব পালন করছে।
হালা ট্র্যাভেল: ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০২১ সালে পুনর্গঠিত এই কোম্পানিটি শুধুমাত্র গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়া যাত্রীদের পরিবহনে মনোনিবেশ করে। কায়রোর নাসর সিটিতে সদর দপ্তর থাকলেও কোম্পানিটি মিশর পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সরকারি তালিকায় নেই এবং এর কোনো প্রকাশ্য জবাবদিহি কাঠামোও নেই।
গোল্ডেন ঈগল: যুদ্ধ শুরুর পর আত্মপ্রকাশ করা এই কোম্পানিটি গাজায় প্রবেশকারী ট্রাকগুলো থেকে চার্জ আদায় করে বলে জানা গেছে।
আল-আকসা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি: এটি গাজার ভেতরে ‘মিশরীয় কমিটি’ নামে পরিচিত সংগঠনের অধীনে পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, কেরেম আবু সালিম সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পরিবাহিত সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব এই কোম্পানির।
এছাড়া তার গাজার ভেতরে ট্রাক রয়েছে এবং নিরাপত্তা কাজে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই পরস্পর সংযুক্ত কোম্পানির নেটওয়ার্ক সীমান্ত ক্রসিংয়ে মানুষের যাতায়াতে “সম্পূর্ণ একচেটিয়া আধিপত্য” তৈরি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার কোম্পানিগুলোর সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারত না বা কোনো ব্যক্তি বের হতে পারতেন না।
গাজা ক্রসিং থেকে বিপুল রাজস্ব
যুদ্ধের আগে হালা কোম্পানি রাফাহ দিয়ে ভিআইপি পারাপারে প্রতিজন ফিলিস্তিনির কাছ থেকে প্রায় ৩৫০ ডলার নিত। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজা থেকে বের হওয়ার পথ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই চার্জ প্রায় ১৪ গুণ বেড়ে যায়।

মিডল ইস্ট আইয়ের ২০২৪ সালের মে মাসের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য চার্জ বেড়ে দাঁড়ায় ৫,০০০ ডলার এবং শিশুদের জন্য ২,৫০০ ডলার। অর্থ পরিশোধ করতে হতো নগদে। কায়রোর নাসর সিটি বা ৬ অক্টোবর শহরে কোম্পানির সদর দপ্তরে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই চর্চাকে “বেঁচে থাকার টিকিট বিক্রি” বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে গাজার বাসিন্দারা বাড়ি, গাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ শুধু মানুষের যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা ট্রাকের ক্ষেত্রেও ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিডল ইস্ট আই জানায়, আবনা সিনাই আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রতিটি সহায়তা ট্রাকের জন্য “প্রশাসনিক ফি” নামে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত আদায় করেছে। একটি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা এই চার্জকে ঘুষ বলে অভিহিত করে মিশর সরকারের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা থেকে মুনাফা করার অভিযোগ আনে।
এছাড়া আরজানি ও তার কোম্পানিগুলো গাজায় সিগারেট আমদানিতেও একচেটিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, আবনা সিনাই বাণিজ্যিক ট্রাকে থাকা সিগারেট বাজেয়াপ্ত করে এবং সিগারেট আমদানিতে “বিশেষ অধিকার” থাকার দাবিতে সেগুলো প্রবেশে বাধা দেয়। সূত্র অনুযায়ী, মিশরে প্রায় ৪০,০০০ মিশরীয় পাউন্ড (৮,০০০ ডলারেরও কম) মূল্যের এক ট্রাক সিগারেট গাজায় ২,৫০,০০০ ডলারে বিক্রি হতে পারে — যা এই একচেটিয়া কাঠামো ও অস্বাভাবিক মুনাফার চিত্র স্পষ্ট করে তোলে।

এমনকি কিছু ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রবেশ করাতে বাড়তি ঘুষ দেন, ফলে কে কত বেশি দিতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে পণ্য প্রবেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণকারী একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে উঠেছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত পরিসংখ্যান আরজানি নেটওয়ার্কে প্রবাহিত কথিত রাজস্বের বিশালতা তুলে ধরে। হালা কোম্পানি গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ১০ লাখ, মার্চে ৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং এপ্রিলে ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় হয়েছে বলে জানা গেছে। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে কোম্পানিটির আয় ছিল প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
কায়রোতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম আট মাসে প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজা ছেড়েছেন। এ থেকে অনুমান করা হয়, শুধু এই ক্রসিং থেকেই সম্ভাব্য আয় শত কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ট্রাকের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিসরের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির পর ২৩ দিনে প্রায় ৯,০০০ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করে। প্রতি ট্রাকে গড়ে ২০,০০০ ডলার ফি ধরলে শুধু এই খাত থেকেই এক মাসেরও কম সময়ে সম্ভাব্য আয় দাঁড়ায় ১৮ কোটি ডলারেরও বেশি — সহায়তা ট্রাক, সিগারেট চালান ও বিশেষ বাণিজ্যিক পণ্যের জন্য আলাদা চার্জ ছাড়াই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কোম্পানিগুলোর রাজস্ব কোনো প্রকাশ্য তদারকির আওতায় নেই। অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে বা প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা — তার কোনো প্রবেশযোগ্য সরকারি রেকর্ড নেই বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরেও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত
ধারণা করা হয়েছিল যে ২০২৫ সালের জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজা শান্তি পরিকল্পনা ইব্রাহিম আল-আরজানির প্রভাব কমিয়ে দেবে। কিন্তু তার কোম্পানিগুলোর প্রভাব কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে।
যদিও প্রতি ট্রাকে চার্জ ৬০,০০০ থেকে কমে ২০,০০০ ডলারে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, তবু সমালোচকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে এগুলো এখনও অবৈধ অর্থ প্রদান এবং এগুলো গাজায় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, যা খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও তীব্র করছে।

এই প্রক্রিয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের সীমিত ভূমিকা। তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টের ভূমিকা মূলত ট্রাকের নম্বরপ্লেট নথিভুক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর কার্যক্রমের মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আরজানি-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর হাতে।
সমালোচকরা আরও দাবি করেন, গাজায় প্রবেশকারী ট্রাকগুলোর পণ্যও মানবিক লক্ষ্যের বদলে বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটার, তেল, চাল ও চিকিৎসা অক্সিজেন ট্যাংকের বদলে চকোলেট, চিপস, কফি ও কোমল পানীয় বোঝাই ডজন ডজন ট্রাক প্রবেশ করেছে — যা সহায়তার অগ্রাধিকার কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
যুদ্ধ শুরু থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করে যে ইব্রাহিম আল-আরজানি এখন আর কেবল সিনাইয়ের একজন স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নন , তিনি যুদ্ধ ও অবরোধ অর্থনীতির একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষিত কোম্পানির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আরজানি দুই কোটি ফিলিস্তিনির একমাত্র জীবনরেখা নিয়ন্ত্রণ করছেন। গাজায় প্রবেশ-প্রস্থানের এই পর্যায়ের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কোনো স্বতঃসিদ্ধ ঘটনা হিসেবে অর্জিত হওয়া সম্ভব নয় — এটি এই সত্তাকে দেওয়া কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
মিশর সরকার যখন তার মানবিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরছে, তখন জনমত উদ্বিগ্ন থাকছে অর্থের ভাগ্য নিয়ে — কারা প্রকৃতপক্ষে সুবিধা পাচ্ছে এবং এই অর্থনৈতিক একচেটিয়া আধিপত্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে।
-মুসলিম পোর্ট ডেস্ক