মুসলিম পোর্ট

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) মঙ্গলবার এক যৌথ ঘোষণায় বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য খাতে বিস্তৃত সহযোগিতার নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করেছেন।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কিছু কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা

  • নাগরিক পারমাণবিক সহযোগিতা:
    দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে। চুক্তিটি আন্তর্জাতিক অ–বিস্তার মানদণ্ড (nonproliferation standards) অনুযায়ী হবে।
  • গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ চেইন:
    প্রয়োজনীয় ও কৌশলগত খনিজের যোগান বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ করতে নতুন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করা হয়েছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI):
    যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরব একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে রিয়াদ উন্নত মার্কিন এআই সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পাবে; তবে প্রযুক্তি সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।

ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি অসংলগ্ন প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি:
    নতুন প্রতিশ্রুতিতে সৌদি বিনিয়োগ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার–এ পৌঁছেছে।
  • বৈশ্বিক আর্থিক সহযোগিতা:
    মার্কিন ট্রেজারি ও সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নতুন চুক্তি করা হয়েছে, যা মূলধন বাজার, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য শৃঙ্খলা জোরদার করবে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

  • স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SDA):
    যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি নতুন কৌশলগত নিরাপত্তা চুক্তি গৃহীত হয়েছে।
  • অস্ত্র বিক্রয়:
    ভবিষ্যতে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহপ্রায় ৩০০টি মার্কিন ট্যাংক কেনা সংক্রান্ত বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তিও ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এসব চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস একে দুই দেশের সম্পর্কের “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।