মুসলিম পোর্ট

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত আরএসএফ গত রোববার আল-ফাশের দখল করে পশ্চিম দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীকে তাদের শেষ শক্ত ঘাঁটি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আল-ফাশেরে সেনাবাহিনীর পতনের পর থেকে মৃত্যুদণ্ড, যৌন সহিংসতা, ত্রাণকর্মীদের ওপর আক্রমণ, লুটপাট ও অপহরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব শুক্রবার জানায়, নতুন চিত্র বিশ্লেষণে তারা মনে করছেন, শহরের অধিকাংশ মানুষ হয়তো ‘মৃত, বন্দি অথবা আত্মগোপনে’ রয়েছেন। গবেষকরা গত সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে আল-ফাশেরের বিভিন্ন এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ এবং সামরিক স্থাপনায় মানবদেহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কমপক্ষে ৩১টি বস্তু শনাক্ত করেছে।

গবেষকরা জানান, সেখানে গণহত্যা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

আল-ফাশের থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিকটবর্তী শহর তাবিলায় পৌঁছানো কয়েকজন এএফপিকে গণহত্যা, বাবা-মায়ের সামনে শিশুদের গুলি করা এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় বেসামরিক নাগরিকদের মারধর ও লুটপাটের কথা জানান।

সৌদি আরব ও বাহরাইনে বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। উভয় পক্ষ, বিশেষ করে সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতিতে অনিচ্ছা দেখিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস আক্ষেপ করে বলেছেন যে বিশ্বের অন্যান্য সংকটের তুলনায় সুদানের এই সংঘাতের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ কম। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে সুদান নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া একেবারেই কম। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, সুদানের ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ চরম খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। এসব কারণে সুদানের সংঘাত আজ বিশ্বের ‘বিস্মৃত যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।