মুসলিম পোর্ট

“আজ মহান সুলতান আব্দুল হামীদ ২য় এর ১০৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী”। মুসলিম উম্মাহর সর্বশেষ নির্বাহী অভিভাবককে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ভরে।

মহান সুলতান,
নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী সর্বশেষ সুলতান! খেলাফতের নিভুনিভু সময়ে তিনি হেলালি নিশান হাতে দীপ্তিমান হয়ে জ্বলে উঠতে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশ- আগ্রাসন সহ আভ্যন্তরিণ সকল বিভক্তি দূর করে মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় বাধতে। আজকের প্যান ইসলামী আন্দোলনের মূল তিনিই ছিলেন। শাম হতে মদিনা পর্যন্ত রেল লাইন নির্মান থেকে শুরু করে তুর্কিস্তানে হামিদিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বহু অবদানের মাধ্যমে তিনি মুসলিম উম্মাহর মাঝে খেলাফতের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা জন্মাতে সফল হয়েছিলেন। তাঁর নামে যখন জুমুয়ার খুতবা পাঠ করা হত, নাম উচ্চারিত হওয়া মাত্রই জনগন ভালবাসায় আশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ত। তিনি মুসলিম উম্মাহকে অভিভাবকহীন বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখতে চাননি, একনিষ্ঠভাবে খেলাফতকে পুনরুজ্জিবীত করতে চেয়েছিলেন।
আফসোস,পারেননি!

বুযুর্গ এই সুলতান নিজের তরফ থেকে কখনোই চেষ্টার কোন ত্রুটি করেননি,
তাকওয়ায়- ইমানে, জ্ঞানে-হিকমতে, বীরত্বে-সাহসিকতায়, দূরদর্শিতায়-বিচক্ষনতায়, ধৈর্য্যে- বদান্যতায়, অনন্য উচ্চতার অধিকারী ছিলেন, সাড়ে ছয়শত বছর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দানকারী উসমানি খিলাফাতের এই শেষ প্রদীপটি….

একাই লড়ে যাচ্ছিলেন সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে, পারেননি এই উম্মাহকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে। জাতীয়তাবাদের বিষবাস্প তার সকল প্রচেষ্টাকে ঝলসে দিয়েছে। আরব জাতীয়তাবাদ, তুর্কি জাতীয়তাবাদ নিজেদের মাঝে সংঘর্ষের অনিবার্য ফল ছিল খেলাফতের ভাঙ্গন।

পাশ্চাত্য তার শান মান, অবদান গুলোকে খুব বাজেভাবে আড়াল করে তার ওপরে হাজার হাজার সাহিত্যকর্ম রচনা করে পৃথিবীব্যাপি ‘ব্লাডি সুলতান’ হিশেবে পরিচিত করেছে। কারন উসমানী খেলাফতের শেষ দিকের সুলতানগন এতটাই দূর্বল ছিলেন যে, শুধুমাত্র একটি আঘাতের প্রয়োজন ছিল খেলাফতকে ভেঙ্গে দেবার জন্য। এমতাবস্থায় সুলতান আব্দুল হামীদ খান খুব শক্ত হাতে খেলাফতের হাল ধরায় তাদের প্রত্যাশিত ডেডলাইনে পৌছতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। সেই প্রতিরোধটুকুই তাদের সহ্য হয়নি, যার দরুন তারা মরহুম এই সুলতানের ওপর সমানে যুলুম চালিয়ে যাচ্ছে।

মুসলিম উম্মাহর যুবকন্ঠে আজ সুলতান আব্দুল হামীদ সমীপে জানাতে চাই-
মুসলিম উম্মাহর ক্রান্তি লগনে খেলাফতের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে ইসলামী পুনর্জাগরনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নজীর স্থাপনকারী মহান সুলতান, ইখলাস ও ইস্তিকামাতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহান কারীগর!
আপনার ইন্তিকালের শতবর্ষ পর এসেও এই উম্মাহ আপনার উত্তরাধিকার বয়ে বেড়ায়। পুনর্জাগরণের আওয়াজ ধ্বনিত হয় মারাকেশ থেকে নীলনদ, সাইপ্রাস থেকে কাস্পিয়ানের তীর, দানিউব থেকে দজলা, সাহারা হতে রেগিস্তান, শাতিল আরব থেকে উরুমুচি-কাশগড়, হিন্দুকুশ থেকে হিমালয়, সিন্ধু থেকে গঙ্গা, আরাকান হতে মালাক্কার প্রতিটি মুসলিম জনপদে।

ওফাত দিবসে শত তাসলীম ওহে মুজাহিদ সুলতান!

-হিশাম আল নোমান