সুদানের উত্তর দারফুরের শহর আল ফাশার এখন পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে। প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ, যাদের অর্ধেকই শিশু এবং নারী , সেখানে খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াই আটকা পড়েছে। জাতিসংঘের চারটি সংস্থা—WFP, UNICEF, WHO এবং OCHA—বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাজার হাজার শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে, কারণ শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, RSF বাহিনী মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রেখে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। খাদ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখা, ত্রাণ গুদাম লুট করা এবং কৃষকদের মাঠে যেতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে RSF দারফুরে ইচ্ছাকৃত দুর্ভিক্ষ তৈরি করছে। UN OCHA-র এক কর্মকর্তার ভাষায়,
“খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। RSF জনগণকে অনাহারে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে।”
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা এবং সহিংসতাও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR) জানিয়েছে, আল ফাশার ও আশপাশের এলাকায় দৈনিক ভিত্তিতে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক নিয়োগের ঘটনা ঘটছে। এপ্রিল মাসে RSF বাহিনী জামজাম শরণার্থী শিবির দখলের পর সেখানে জাতিগত গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালায়। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, আল ফাশারেও একই ধরণের হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন,
“এটি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। RSF এখন যে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করছে যাকে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগী মনে করছে।”
র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা RSF হচ্ছে ২০০৩ সালের দারফুর যুদ্ধের সময় জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকে গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী। এর নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি)। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির (২২ অক্টোবর ২০২৫) এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, RSF সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
দারফুরের সোনার খনি, পাচারকৃত জ্বালানি ও সীমান্তপথে চোরাই অস্ত্র ব্যবসা RSF-এর প্রধান অর্থের উৎস। জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ দলের মতে, RSF এখন একটি “যুদ্ধনির্ভর বাণিজ্য সাম্রাজ্য”, যার লক্ষ্য সোনা, বাণিজ্য রুট ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।