মুসলিম পোর্ট

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য বিষয়ক মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন যে, দখলদার ইজরায়েলি বাহিনী গাজায় শিশু হত্যার জন্য এক অভিনব ফাঁদ পেতে রেখেছে। যেটিকে “বুবি-ট্র্যাপড” বলা হচ্ছে, বিস্ফোরক খেলনা পুতুল ও খেলনা।

তিনি বলেন,

“এই নৃশংসতা ইজরায়েলি গণহত্যার নতুন রূপ, যা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে।”

বুবি-ট্র্যাপে প্রাণ হারানো গাজার শিশুদের কবর।

রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে আল-বুরশ লেখেন, “পুতুলের আকারের বোমা এটি, সন্ত্রাসী ইজরায়েলি সেনারা শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস করেই থেমে থাকেনি, তারা শিশুদের হাতে রেখে গেছে সময়নির্ধারিত মৃত্যুবোমা।”

তিনি আরও বলেন, “গাজা শহরের সরু গলিতে, ভাঙা ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে ছড়িয়ে আছে অবিস্ফোরিত রকেট ও শেলের টুকরো। যেন সৈন্যরা চলে গেলেও মৃত্যুর মিশন থেমে নেই। প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে আসে ছিন্নভিন্ন শিশুদের দেহ, কাটা হাত-পা, বিকৃত মুখ—সবই যেন আমাদের শিশুদের শৈশবের কৌতূহল ও নিষ্পাপ খেলাধুলোর মূল্য।”

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য বিষয়ক মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ

আল-বুরশ ব্যাখ্যা করেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ংকর অবশিষ্টাংশ হলো সেইসব জিনিস, যেগুলো ফেরেশতার মুখে শয়তানের ছদ্মবেশ নেয়—বুবি-ট্র্যাপড খেলনা: পুতুল, পাখি, ছোট টেডি বেয়ার—যেগুলো শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য রেখে গেছে ওরা। আমাদের শিশুরা যখন ‘সুন্দর খেলনাটি’ হাতে নেয়, তার কিছু পরেই সেটার বিস্ফোরণ ঘটে। এর চেয়ে চতুরতা আর কিসে আছে? অথচ যে সেনারা নিজেদের অধিক নৈতিক দাবি করে, তারা মৃত্যুকে আমাদের শিশুদের দূরন্ত শৈশবের হৃদয়ে পুঁতে দিয়েছে।”

তিনি শেষ করেন এই বলে,

“আজ পুতুল হয়ে গেছে ল্যান্ডমাইন, টেডি বেয়ার পরিণত হয়েছে বিকলাঙ্গতার অস্ত্রে, আর রঙিন বল হয়ে উঠেছে এমন এক ফাঁদ, যা আমাদের শিশুদের পুরো শৈশবকেই চুরি করে নিচ্ছে ।”

এই ভয়াবহ অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আবারও গাজার শিশুদের নিরাপত্তার দিকে ঘুরে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতির পরেও যদি খেলনার আড়ালে মৃত্যু লুকিয়ে থাকে, তবে এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক নতুন মাত্রার অপরাধ ও প্রতারণা।