ফরমানের নান্দনিক রূপ: হত্ত-ই হুমায়ুন (সুলতানদের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি)
অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রজন্মান্তরে চলে আসা প্রতিটি লিখিত দলিলই সংশ্লিষ্ট সভ্যতার চিন্তাজগৎ, আদর্শ ও শাসনসংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটানো এক জীবন্ত স্মৃতি। এই স্মৃতির অন্যতম অনন্য অংশ হলো হত্ত-ই হুমায়ুন, উসমানী সুলতানদের সরকারি নথিতে নিজ হাতে লেখা মন্তব্য, সংযোজন কিংবা সরাসরি নিজের হস্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ আদেশ। এসব দলিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছাকে তার সবচেয়ে সরল ও প্রত্যক্ষ রূপে তুলে ধরে।
উসমানী শাসকদের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, কৌশলগত দূরদৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত বিবেচনাকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা এই প্রত্যক্ষ দলিলগুলো কেবল আইনি নথি কিংবা কোনো আদেশের লিখিত রেকর্ড নয়। কাগজের ওপর কালির আঁচড়ে রেখে যাওয়া প্রতিটি রেখা একই সঙ্গে বহন করে সুশোভিত হস্তলিপি শিল্পের সৌন্দর্য, সভ্যতার বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি, শাসকদের জ্ঞান ও মনন এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কে তাঁদের ধারণার উজ্জল সাক্ষ্য।
বাব-ই আলির ভাণ্ডার থেকে আধুনিক যুগের রাষ্ট্রীয় আর্কাইভ পর্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন সংরক্ষণ-প্রক্রিয়া পেরিয়ে এই মূল্যবান সম্পদ আজ তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেট আর্কাইভসের উসমানী আর্কাইভে গবেষক ও জ্ঞানচর্চার জগতের জন্য উন্মুক্ত। এই অমূল্য সংগ্রহ আজও তুর্কি ইতিহাসচর্চা ও সভ্যতার ইতিহাসকে আলোকিত করে চলেছে।
ইসলামি সভ্যতার নান্দনিক বোধ ও আত্মশুদ্ধির চেতনাকে ধারণ করা এই সুশোভিত হস্তলিপির নিদর্শনসমূহ বর্তমানে এক লক্ষেরও বেশি দলিলের সমৃদ্ধ সংগ্রহে পরিণত হয়েছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে নির্মিত অন্যতম শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে এই অনন্য ঐতিহ্য উসমানী কূটনৈতিক দলিলবিদ্যা, প্রাচীন হস্তলিপি পাঠবিদ্যা এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের গবেষণার জন্য এক অমূল্য উৎস।
উসমানী সাম্রাজ্য থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক দলিলসমূহ আমাদের অতীতকে আলোকিত করা ও তা বোঝার ক্ষেত্রে অনন্যভাবে পথনির্দেশ করে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে সুলতানদের সরকারি ফরমান, সনদ, আদেশ ও দরখাস্তের মতো নথির ওপর তাঁদের নিজ হাতে লেখা মন্তব্য, প্রদত্ত অনুমোদন কিংবা কোনো বিশেষ কারণে স্বহস্তে রচিত পৃথক লেখাও। ইতিহাসের পরিভাষায় এসব ঐতিহাসিক দলিলকে ‘হত্ত-ই হুমায়ুন’ বলা হয়।
‘হত্ত’ শব্দের অর্থ ‘লেখা’ বা ‘হস্তলিপি’, আর ‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ ‘পবিত্র’ বা ‘সুলতানের সঙ্গে সম্পর্কিত’। এই দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত ‘হত্ত-ই হুমায়ুন’ পরিভাষাটি যেমন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যক্রমকে পরিচালিত করা সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের প্রতিফলন, তেমনি রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে সুলতানের সম্পর্কেরও অন্যতম প্রত্যক্ষ প্রকাশ।
বর্তমানে বিশেষ করে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেট আর্কাইভসের উসমানী আর্কাইভ, তোপকাপি প্রাসাদ জাদুঘরের গ্রন্থাগার এবং তুর্কি ও ইসলামি শিল্পকর্ম জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত হত্ত-ই হুমায়ুনগুলো সুলতানদের রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নৈতিক সংবেদনশীলতা এবং চিন্তাজগৎ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ উৎস হিসেবে বিবেচিত।
কারণ, উজিরে আজম বা রাষ্ট্রের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সুলতানের কাছে যে তেলহিস ও তাকরির-এর মতো সরকারি নথি পেশ করতেন, সেসবের ওপর সুলতান নিজ হাতে মন্তব্য লিখলে কিংবা কোনো বিষয়ে সরাসরি নিজের হস্তাক্ষরে আদেশ প্রদান করলে যে দলিলের সৃষ্টি হতো, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দৃষ্টিতে সেগুলোর আইনসম্মত বাধ্যবাধকতা ছিল।
বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধির কারণে হত্ত-ই হুমায়ুন উসমানী ইতিহাসচর্চায় অনন্য অবদান রাখে। এগুলো কেবল কোনো আইনগত নথি নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পর্কে সুলতানের ব্যক্তিগত ইচ্ছা, তাঁর শাসন-দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত দূরদৃষ্টি এবং কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তের মানসিক অবস্থারও সরাসরি প্রতিফলন। এই কারণেই এগুলো অন্যান্য ঐতিহাসিক উৎস থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে।
উসমানী দলিলবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এসব নথি। বিশেষ হস্তলিপি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত সুলতানরা যেসব দলিল নিজ হাতে রচনা করতেন কিংবা তাতে নিজস্ব মন্তব্য লিখতেন, সেগুলো একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাসকের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে, অন্যদিকে তেমনি এগুলো আর্কাইভের সবচেয়ে নির্বাচিত ও নান্দনিক মূল্যসম্পন্ন দলিলগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
প্রকৃতপক্ষে, হত্ত-ই হুমায়ুনকে স্বতন্ত্র ও অমূল্য করে তোলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এতে শাসকের নিজস্ব হস্তাক্ষর ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলন ঘটে। একটি হত্ত-ই হুমায়ুন পাঠ করা যেন সেই মুহূর্তে একজন সুলতানের অন্তর্জগতের গভীরে প্রবেশ করা; তাঁর মানসিক অবস্থা ও বৌদ্ধিক গভীরতার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার মতো।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে হত্ত-ই হুমায়ুন উসমানী সুলতানদের প্রশান্তি, সৌন্দর্যবোধ, সৌজন্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের অবিচল গাম্ভীর্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান ঐতিহাসিক স্মারকগুলোর অন্যতম।
ফরমানটিতে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের নিজ হাতে লেখা হত্ত-ই হুমায়ুন হিসেবে নিম্নলিখিত বাক্যটি রয়েছে:
“ইশবু আমর-ই আলীশানিম মুজিবিনজে আমেল ও হরকেত ও হিলাফিন্দান তেহাশী ও মুজানেবেত অলুনা।”
অর্থাৎ—
“আমার এই মহিমান্বিত আদেশ অনুযায়ী কার্য ও আচরণ করা হোক এবং এর পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা হোক।”
উনিশ শতকের শুরুর দিকে হত্ত-ই হুমায়ুন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাব-ই আলির আশপাশের ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার বা গুদামঘরে রেইসুলকুত্তাবের সিলমোহরযুক্ত সিন্দুক ও বস্তার মধ্যে সংরক্ষিত থাকত। সুলতানের নির্দেশে এসব দলিল প্রাচীন রীতিনীতি অনুসারে সিল না খুলেই তাঁর সামনে হাজির করা হতো। পর্যালোচনা শেষে একই পদ্ধতিতে সেগুলো পুনরায় ভাণ্ডারঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হতো।
অন্যদিকে, হত্ত-ই হুমায়ুনের আরেকটি অংশ হাজিনে-ই এভরাক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেফতেরহানে অগোছালো ও অনুপযোগী পরিবেশে সংরক্ষিত ছিল। অনুপযুক্ত ভৌত পরিবেশে রাখা এসব দলিলের একটি অংশ সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। তবে হত্ত-ই হুমায়ুনে তুলনামূলক উন্নতমানের কাগজ ও কালি ব্যবহৃত হওয়ায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও এসব দলিল অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিতে টিকে থাকতে পেরেছে, এটি ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
উসমানী সাম্রাজ্যে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপের প্রথম আর্কাইভ হাজিনে-ই এভরাক প্রতিষ্ঠার পর ১৮৫০ সালের ৫ মার্চের এক সিদ্ধান্তে প্রথম পর্যায়ে সুলতান প্রথম মাহমুদ থেকে দ্বিতীয় মাহমুদের সময়কাল পর্যন্ত রচিত হত্ত-ই হুমায়ুনগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় এই প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এভাবে ধীরে ধীরে হাজিনে-ই এভরাকে স্থানান্তরিত এসব ঐতিহাসিক দলিলকে শ্রেণিবিন্যাসের সময় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলোর সূচিও প্রস্তুত করা হয়।
১৮৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রথম দফার হস্তান্তর কার্যক্রমের পর উসমানী আমলাতন্ত্রে থাকা সব ধরনের হত্ত-ই হুমায়ুন হাজিনে-ই এভরাকে স্থানান্তর করা একটি প্রতিষ্ঠিত রীতিতে পরিণত হয়। প্রকাশিত পরিপত্র ও গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে একটি শক্তিশালী ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে বাব-ই আলি হাজিনে-ই এভরাক বিশেষ করে এই দুই ধরনের দলিল ইরাদে ও হত্ত-ই হুমায়ুন সংরক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান।
এর স্বাভাবিক ফল হিসেবে উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত দলিল ও রেজিস্টার সংরক্ষণের জন্য তৈরি জিঙ্কের সিন্দুক, আলমারি ও বাক্সের একটি বড় অংশ ইরাদে ও হত্ত-ই হুমায়ুন সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষও এসব দলিল বস্তার মধ্যে সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। প্রজাতন্ত্রের শুরুর বছরগুলোতেও এই ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল।
প্রজাতন্ত্রের আমলেও হত্ত-ই হুমায়ুনের শ্রেণিবিন্যাস ও সারসংক্ষেপ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সবচেয়ে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৪০ সালের গোড়ার দিকে আর্কাইভ দপ্তরের অধীনে। হত্ত-ই হুমায়ুন কক্ষে থাকা ২৩১টি সিন্দুকে প্রায় ৪০,০০০ দলিল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি কয়েক মাসের মধ্যেই এসব দলিলের শ্রেণিবিন্যাস সম্পন্ন করতে পারবে।
কিন্তু শ্রেণিবিন্যাস ও সারসংক্ষেপ তৈরির কাজ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়। বিভিন্ন আর্কাইভবিদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ১৯৪৫ সালের ১০ জুলাই, আর্কাইভের মহাপরিচালক কেনান তুনা-এর সময়ে সম্পন্ন হয়। কাজ শেষে দেখা যায়, মোট ৫৮,৪১৯টি হত্ত-ই হুমায়ুন দলিলের শ্রেণিবিন্যাস সম্পন্ন হয়েছে।
১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে সুলতান প্রথম মাহমুদের সময়কাল থেকে দ্বিতীয় মাহমুদের সময়কাল পর্যন্ত হত্ত-ই হুমায়ুনগুলোর শ্রেণিবিন্যাস ও সারসংক্ষেপ প্রণয়নের কাজ শেষ হয়। এরপর সেগুলো টাইপ করে তেলহিস রেজিস্টার ও অনুসন্ধানসূচি সংকলন করে বাঁধাই করা হয় এবং গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এই শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ভিত্তিতে পরবর্তী বছরগুলোতে আরও কাজ সম্পন্ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেট আর্কাইভসের উসমানী আর্কাইভ কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত হত্ত-ই হুমায়ুন ফান্ডে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ১,২৬,৬৫৫টি দলিল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা প্রমাণ করে যে হত্ত-ই হুমায়ুন ফান্ড উসমানী আমলাতন্ত্রের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত দলিল-সংগ্রহগুলোর অন্যতম।
হত্ত-ই হুমায়ুনগুলো কোথায় এবং কোন ধরনের নথির ওপর লেখা হয়েছে তার ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘উনভানিনা’, ‘বেয়াজ উজেরিনে’, ‘আরজ’, ‘তেলহিস’ এবং ‘তাকরির উজেরিনে’ লেখা হত্ত-ই হুমায়ুন।
রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পর্কিত ফরমান, সনদ ও অনুরূপ সরকারি নথিতে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে সুলতান যে বাক্যটি লিখতেন “মুজেবিনজে আমেল অলুনা” অর্থাৎ “এর বিধান অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করা হোক” তা হত্ত-ই হুমায়ুনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রচলিত ও নির্দিষ্ট অভিব্যক্তিগুলোর একটি।
আধুনিক আমলাতান্ত্রিক পরিভাষায় এটি অনেকটা “অনুমোদিত” বা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সমতুল্য। আদেশটি যেন বিলম্বিত বা উপেক্ষিত না হয়, এ বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে কখনো কখনো এর সঙ্গে সতর্কতামূলক বাক্যও যুক্ত করা হতো। যেমন “হিলাফিন্দান হাজের অলুনা” অথবা “হিলাফিন্দান মুজানেবেত অলুনা”, যার অর্থম“এর বিপরীত কোনো কাজ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা হোক।”
সুলতান যখন উজিরে আজমের মাধ্যমে পেশ করা কোনো আরজ বা তেলহিস ছাড়াই কোনো বিষয়ে সরাসরি আদেশ প্রদান করতেন, তখন সেই আদেশকে “বেয়াজ উজেরিনে হত্ত-ই হুমায়ুন” বলা হতো। এ ধরনের দলিল সরাসরি যার উদ্দেশে লেখা হতো, তাকে সম্বোধন করেই রচিত হতো। ফলে এর মূল বক্তব্য শুরু হতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এলকাব বা তাঁর পদ ও মর্যাদাসূচক উপাধি দিয়ে।
উজিরে আজমকে উদ্দেশ করে লেখা হত্ত-ই হুমায়ুনে “বেনিম ভেজিরিম, ভেজির-ই মাআলি-ই সেমিরিম” ধরনের সম্বোধন বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। এর ভাবার্থ “আমার উজির, আমার উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন উজির।”
আবার উজিরে আজম যখন সেরদার-ই একরেম অর্থাৎ প্রধান সেনাপতি হিসেবে সামরিক অভিযানে অংশ নিতেন, তখন সম্বোধনের ধরনও ভিন্ন হতো। যেমন “বেনিম সেরদার-ই জাফের-শিয়ারিম” (আমার বিজয়খ্যাত সেনাপতি), “বেনিম ভেজির-ই আজম ও সেরদার-ই জাফের-রেহবারিম” (আমার উজিরে আজম ও বিজয়ের পথপ্রদর্শক সেনাপতি) এবং “বেনিম ভেজির-ই আজম ও ভেকিল-ই মুতলাকিম” (আমার উজিরে আজম ও সর্বময় প্রতিনিধি) ইত্যাদি।
একইভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ ও ক্ষমতা অনুযায়ী “সেন কি কাপুদান পাশাসিন” (তুমি, যিনি কাপুদান পাশা), “সেন কি বাগদাদ ভ্যালিসিসিন” (তুমি, যিনি বাগদাদের গভর্নর) এবং “সেন কি বোস্তানজিবাশিসিন” (তুমি, যিনি বোস্তানজিবাশি) ইত্যাদি বাক্য দিয়ে শুরু হওয়া হত্ত-ই হুমায়ুনের উদাহরণও পাওয়া যায়। এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের বিস্তৃত পরিসরের কর্মকর্তা ও শাসনকর্তাদের উদ্দেশে এই ধরনের দলিল রচনা করা হতো।
এ ধরনের ঐতিহাসিক দলিলে আরও “সেনি সালাম-ই শাহানেমলে তেশরিফ এয়লেদিমদেন সোনরা” এবং “সেনি হত্ত-ই হুমায়ুনুমলে তাতলিফ এয়লেদিমদেন সোনরা”-এর মতো সম্ভাষণমূলক বাক্যও প্রায়ই দেখা যায়। এসবের ভাবার্থ হলো “তোমাকে আমার রাজকীয় সালাম দ্বারা সম্মানিত করার পর” অথবা “তোমাকে আমার হত্ত-ই হুমায়ুনের মাধ্যমে সম্মানিত করার পর।”
“আমার উজির, আমি যে লেখাটি পাঠিয়েছি, তা কাপুদান পাশার কাছে দিয়ে দেবে। লেখার অক্ষর, রেখা ও অলংকরণ সবই আমার করা। তবে চিত্রগুলোর মধ্যে যে ‘হালকারি’ অলংকরণ রয়েছে, তা আমার নয়। লেখাটি অনুশীলন করে পুনরায় লিখতে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেবে। সে যদি এর চেয়ে ভালো লিখতে পারে, তবে আমিও হস্তলিপিচর্চা করব; এতে আমার চেষ্টাও আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ইনশাআল্লাহ আরও নিখুঁতভাবে লিখতে পারব। তাকে দিয়ে লিখিয়ে পাঠাবে এটাই প্রত্যাশা।”
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: এখানে সুলতান তৃতীয় আহমেদ তাঁর নিজের হাতে লেখা একটি নমুনা কাপুদান পাশার কাছে অনুশীলনের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে লেখার অক্ষর, রেখা ও প্রান্তসজ্জা তাঁর নিজের করা; তবে চিত্রের ভেতরের হালকারি অলংকরণ তাঁর নয়। একই সঙ্গে তিনি লেখার মান আরও উন্নত করার জন্য অনুশীলনের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
হত্ত-ই হুমায়ুন লেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল এমন কিছু সরকারি নথি, যেখানে বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতি-সম্পর্কিত প্রশাসনিক বিষয় উজিরে আজম সংক্ষেপে তুলে ধরে সুলতানের কাছে পেশ করতেন। অটোমান রাষ্ট্রীয় দলিলবিদ্যায় এ ধরনের সংক্ষিপ্তসারকে ‘তেলহিস’ বলা হয়।
সুলতানরা এসব তেলহিস পর্যালোচনা করার পর বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন ও বিবেচনা করেছেন এ কথা বোঝাতে নথির ওপর “মালুম-ই হুমায়ুনুম ওলদু” অথবা “মানজুর-ই হুমায়ুনুম ওলদু”-এর মতো বাক্য লিখতেন। এগুলোর অর্থ যথাক্রমে “বিষয়টি আমার অবগত হয়েছে” এবং “বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।”
তাঁদের কাছে পেশ করা কোনো প্রস্তাব উপযুক্ত মনে হলে অথবা প্রত্যাখ্যান করলে, তাঁরা সংক্ষিপ্ত কিছু বাক্যের মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। যেমন “ভিরদুম” (আমি অনুমোদন দিলাম/দিলাম), “ভিরুলসুন” (দেওয়া হোক), “ইজন-ই হুমায়ুনুম ওলমুশতুর” (আমার রাজকীয় অনুমোদন হয়েছে), “ওলমাজ” (হবে না/অনুমোদিত নয়), “ভিরুলমেসিন” (দেওয়া হবে না) এবং “ইয়াজিলমাসিন” (লেখা হবে না)।
এছাড়াও “তেদারুক এদেসুন” (প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক), “বেরহুদার ওলসুনলার” (তাঁরা কল্যাণে থাকুন/সুখী হোন), “তানজিম ও ইজরা ওলুনা” (ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর করা হোক), “মুকাইয়্যেদ ইদেসুন” (লিপিবদ্ধ/নথিভুক্ত করুক) এবং “মুকাইয়্যেদ ওলাসুন” (লিপিবদ্ধ/নথিভুক্ত থাকুক) এ ধরনের আদেশ ও নির্দেশনামূলক বাক্যও এসব হত্ত-ই হুমায়ুনে প্রায়ই দেখা যায়।
“চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র শাবান মাসের পনেরোতম বৃহস্পতিবারের রাতটি যে শবে বরাত এ বিষয়টি ঘোষণা ও প্রচার করার উদ্দেশ্যে উক্ত রাতে প্রদীপসমূহ প্রজ্বালনের জন্য আমার রাজকীয় অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।”
হত্ত-ই হুমায়ুনটিতে সুলতান কানুনি সুলায়মান “দেফিন ওলসুন” অর্থাৎ “দাফন করা হোক” এই বাক্যটি স্বহস্তে লিখেছিলেন।
আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সুলতানের কাছে পেশ করা আরজ ও তাকরির-এর মতো নথিতেও একই ধরনের প্রচলিত বাক্য ও অভিব্যক্তির দেখা মেলে।
সুলতানের নিজ হাতে লেখা সংবলিত হত্ত-ই হুমায়ুন সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও উসমানী রাষ্ট্রীয় দলিলবিদ্যার গবেষণার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও প্রাথমিক উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্বহস্তলিখিত বাক্য সংশ্লিষ্ট নথিগুলোকে অন্যান্য সরকারি দলিল থেকে স্বতন্ত্র করে তোলে এবং একই সঙ্গে সেগুলোকে আইনগত ও নান্দনিক উভয় ধরনের মূল্য প্রদান করে।
এ কারণেই গবেষণামূলক সাহিত্যে এ ধরনের দলিলকে “হত্ত-ই হুমায়ুন ইলে মুভেশশাহ” অর্থাৎ “সুলতানের স্বহস্তলিখিত অক্ষরে অলংকৃত” বলে অভিহিত করা হয়।
“মুজেবিনজে আমেল অলুনা” অর্থ “এর বিধান অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করা হোক” বা “নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
অটোমান রাজপুত্রদের শৈশবকাল থেকেই অত্যন্ত যত্ন ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শিক্ষা দেওয়া হলেও, সুলতানরা নিজ হাতে যে হত্ত-ই হুমায়ুন লিখতেন, সেগুলোকে ক্যালিগ্রাফি ও হুসন-ই হত্ত শিল্পের বিচারে সবসময় নিখুঁত লেখা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, নিচের উদাহরণটিও যার প্রমাণ।
কারণ, এসব দলিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি চিঠিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং জরুরি নির্দেশনা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল। তাই হত্ত-ই হুমায়ুনে রুলার বা মাপযন্ত্র দিয়ে আঁকা রেখার মতো নিখুঁত রিকা, সুলুস কিংবা নসখ লিপির অনুশীলন করা ক্যালিগ্রাফির আদর্শ নমুনা খোঁজা যথার্থ হবে না।
লেখার ধরন ও গুণমান বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন: সুলতানের প্রাপ্ত ক্যালিগ্রাফি-শিক্ষা, সেই মুহূর্তের মানসিক অবস্থা, লেখার পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়টির জরুরি প্রয়োজনীয়তা এসব নানা বিষয় তাঁর হস্তলিপির বৈশিষ্ট্য ও মানকে প্রভাবিত করত।
এর অর্থ “এটি আমার রাজকীয় অনুমোদন লাভ করেছে।”
তবে এর পাশাপাশি উসমানী সাম্রাজ্যের বহু সুলতান সে যুগের খ্যাতিমান হস্তলিপিশিল্পীদের কাছ থেকে মেশক বা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে ইজাজত লাভ করেছিলেন এবং হুসন-ই হত্ত শিল্পে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
ইসলামি সভ্যতায় পবিত্র কাজ হিসেবে বিবেচিত সুন্দর হস্তলিপি রচনার শিল্পকে কেবল নান্দনিক দক্ষতা হিসেবেই দেখা হতো না; বরং এটিকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধিরও এক প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এ কারণে রাজপুত্রদের শিক্ষাক্রমে হুসন-ই হত্তের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল।
শায়খ হামদুল্লাহর শিষ্য সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদ; হাফিজ ওসমানের ছাত্র সুলতান দ্বিতীয় মুস্তাফা ও সুলতান তৃতীয় আহমেদ; কাজাসকার মুস্তাফা ইজ্জত এফেন্দির কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া সুলতান আবদুলমজিদ; এবং রিকা ও জেলি লিপিতে ইজাজতপ্রাপ্ত সুলতান আবদুলআজিজ, সুলতান পঞ্চম মুরাদ ও সুলতান দ্বিতীয় আবদুলহামিদ হুসন-ই হত্তের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও প্রতিভার কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একইভাবে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদও কেবেজিজাদে মেহমেত ভাসফি এফেন্দির কাছ থেকে সুলুস ও নসখ লিপিতে ইজাজত লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি খ্যাতিমান হস্তলিপিশিল্পী হাত্তাত মুস্তাফা রাকিম এফেন্দির শিষ্য হিসেবে হুসন-ই হত্ত শিল্পে উচ্চতর মর্যাদা অর্জন করেন।
তাঁর রচিত ৬৬০ × ১৯৪ সেন্টিমিটার মাপের জেলি সুলুস লিপিতে লেখা—
“আল্লাহু ওয়ালিয়্যুত-তাওফিক”
[সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই]
শীর্ষক ফলকটি এবং এর নিচে থাকা তাঁর স্বাক্ষর
“কাতাবাহু মাহমুদ বিন আবদুলহামিদ খান”
[আবদুলহামিদ খানের পুত্র মাহমুদ এটি লিখেছেন]
উসমানী সুলতানদের হাতে সৃষ্ট হস্তলিপিশিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্সিয়াল ন্যাশনাল লাইব্রেরির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত “মুজেবিনজে আমেল অলুনা: হত্ত-ই হুমায়ুনলার” শীর্ষক প্রদর্শনীতে উসমানী শাসকদের নিজ হাতে রচিত ঐতিহাসিক দলিলসমূহের একটি বিস্তৃত ও নির্বাচিত সংগ্রহ জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রদর্শনীতে কানুনি সুলতান সুলায়মান থেকে শেষ উসমানী সুলতান সুলতান ভাহদেত্তিন পর্যন্ত সময়কালের ৮টি ফরমান, ৯টি সনদ, ৬টি রেজিস্টার এবং ৯৩টি হত্ত-ই হুমায়ুন প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে হস্তলিপি শিল্পে বিশেষ দক্ষতা অর্জনকারী ১৮ জন উসমানী সুলতানের স্বহস্তলিখিত নমুনা একই ছাদের নিচে একত্রিত হয়।
তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, আর্থিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সুলতানদের নিজ হাতে লেখা মূল্যায়ন ও মতামতসমৃদ্ধ এই নির্বাচিত সংগ্রহ দর্শনার্থীদের উসমানী শাসনব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ ও প্রাথমিক উৎসের মাধ্যমে জানার সুযোগ করে দেয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে, হত্ত-ই হুমায়ুন শুধু উসমানী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যক্রম তুলে ধরা সরকারি দলিল নয়; বরং এগুলো সুলতানদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা, চিন্তাজগৎ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি প্রতিফলিত করা প্রত্যক্ষ ও প্রাথমিক ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
হস্তলিপিটির শেষে “আবদুলহামিদ” নামে সুলতানের স্বাক্ষর রয়েছে।
শাসকরা নিজ হাতে যে নোট লিখতেন অথবা সরকারি নথির ওপর স্বহস্তে যে মন্তব্য সংযোজন করতেন, সেসবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক কার্যক্রম এবং তৎকালীন রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলি সরাসরি অনুসরণ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে এসব দলিল উসমানী রাষ্ট্রীয় দলিলবিদ্যা, প্রাচীন হস্তলিপি পাঠবিদ্যা এবং হুসন-ই হত্ত শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও নান্দনিক মূল্য বহন করে।
অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে নির্মিত এক শক্তিশালী সেতু হিসেবে হত্ত-ই হুমায়ুন ইতিহাসচর্চায় আলোকপাত করা এবং রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে জীবন্ত রাখার কাজ অব্যাহত রেখেছে। এ কারণে এগুলো আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান জ্ঞানভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
লিখেছেনঃ হাসিবুল হোসেন শান্ত