গমের ফলন বাড়লেও খাদ্যসংকট কেন কাটছে না সিরিয়ায়, কে চুরি করছে এসব ফসল?
যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সিরিয়ায় ২০২৬ সালে গমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু মাঠে ফলন বাড়লেও সাধারণ মানুষের খাবারের নিশ্চয়তা ফিরছে না। প্রশ্ন উঠছে, উৎপাদিত গম কোথায় যাচ্ছে, কারা তা কিনছে এবং বিদেশি শক্তির ভূমিকা কি সিরিয়ার খাদ্যসংকটকে আরও জটিল করে তুলছে?
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত ২৮ আগস্টের মূল্যায়নে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে সিরিয়ায় গম উৎপাদন প্রায় ২৭ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। অথচ দেশটির ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে গম আমদানির প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত রয়েছে। উচ্চ খাদ্যমূল্য, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় এবং মানুষের আয় কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গম আছে, খাবার কেনার সামর্থ্য নেই
সিরিয়ার সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে খাদ্যের প্রাপ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান। উৎপাদন বাড়লেই দরিদ্র পরিবারগুলোর পাতে খাবার পৌঁছায় না। কৃষকের উৎপাদন খরচ, সরকারি সংগ্রহমূল্য, পরিবহনব্যবস্থা এবং বাজারে খাদ্যের দাম—সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিউসনেটের জুন ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭ সময়কালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসংকট অব্যাহত থাকতে পারে। কৃষকদের ঋণ, উৎপাদন ব্যয় এবং গম সংগ্রহে প্রশাসনিক বিলম্বও তাদের আয় সীমিত করছে।
সরকারি গম যাচ্ছে কোথায়?
সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানার ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সরবরাহ ও ক্রয় কর্তৃপক্ষ ২ লাখ টন উদ্বৃত্ত ডুরাম গম বিক্রির দরপত্র প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬ সালের ফসল থেকে সংগৃহীত গমের পরিমাণ দেশের আনুমানিক বার্ষিক চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে।
তবে দরপত্রে গমের সম্ভাব্য ক্রেতাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই গম কোন দেশ, ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
যদিও ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ার গম ও তেল যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরাকে নিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ অতীতে সিরিয়ার সরকারি সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে রেডিও ফ্রি এশিয়ার তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে গম চুরির প্রমাণ হিসেবে প্রচারিত কয়েকটি ছবিও দেখা যায়।
সিরিয়ার খাদ্যসংকটের বাস্তবতা হলো, উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা, উচ্চ মূল্য, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং খাদ্যবণ্টনের সমস্যায় মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। তাই মূল প্রশ্ন শুধু গম কে নিচ্ছে, তা নয়; বরং উৎপাদিত শস্য কীভাবে ন্যায্য দামে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।